নতুন ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা দ্রুত ফিরতে শুরু করেছে

ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। বিজয়ের পরই ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে দেশের ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

দেশের ব্যাংক খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ শরিয়াহ্‌ভিত্তিক। এ ধারার ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি কি? বিরাজমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আপনাদের পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। বিজয়ের পরই ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে দেশের ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ব্যাংকের নিয়মনীতিতে যেমন কুঠারাঘাত করা হয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে জবাবদিহিহীনতার এক নতুন ব্যাংকিং সংস্কৃতি চালু হয়। কোটি গ্রাহকের আমানত বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে জমা হলেও বিনিয়োগ নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকত। এ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের অনাস্থা তৈরি হয়। ফলে সৃষ্টি হয় তারল্য সংকট। এমনকি নানা অনিয়মের কারণে বৈদেশিক করেসপন্ডিং ব্যাংকিং সম্পর্কেও ফাটল ধরে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট ঋণাত্মকে পরিণত হয়। এতে আরটিজিএস, এনপিএসবি এবং ক্লিয়ারিং সিস্টেমে সমস্যার সৃষ্টি হয়। গ্রাহকরা সময়মতো টাকা স্থানান্তর করতে না পারায় ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং বড় বড় গ্রাহকরা ব্যাংকে টাকা রাখা কমিয়ে দেন।

এ সংকটময় পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের জন্য নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই পর্ষদের পক্ষ থেকে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে বহুমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ঘোষণা করা হয় পুনর্গঠন পরিকল্পনা, যা তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাজানো হয়। প্রথম ধাপে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে ব্যাংকের চলমান তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালকে ব্যাংকের ‘‌ঘুরে দাঁড়ানোর বছর’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। তৃতীয় ধাপে, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ব্যাংককে ‘‌এগিয়ে যাওয়ার বছর’ হিসেবে নির্ধারিত হয়।

এ ব্যাংকের পূর্ববর্তী অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করতে চারটি স্বনামধন্য অডিট ফার্ম নিয়োগ দেয়া হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ফরেনসিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করবে। নতুন ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা দ্রুত ফিরতে শুরু করে। যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারা আবার ইসলামী ব্যাংকে ফিরে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংক ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহে সক্ষম হয়। ব্যাংকের ঋণাত্মক প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট ইতিবাচকে উন্নীত হয়, ফলে আরটিজিএস, এনপিএসবি ও ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ায় গ্রাহকরা নির্বিঘ্নে লেনদেন করতে পারছেন। ব্যাংকে সুশাসন ফিরে আসায় বিদেশে অবস্থানরত গ্রাহকদের মধ্যেও আস্থা ফিরে আসে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে শুরু করেছেন যা ব্যাংকের স্থিতিশীলতা আরো সুদৃঢ় করেছে।

অতীতে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে যেসব অনিয়ম হয়েছে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

ইসলামী ব্যাংকে অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনিয়ম চিহ্নিতকরণ ও প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমে অনিয়মের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। টাস্কফোর্সকে ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং বোর্ডের পক্ষ থেকে তাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতের বিনিয়োগ বিতরণ প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। বিনিয়োগগ্রহীতার তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও শরিয়াহ কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে বড় বিনিয়োগ বিতরণের ক্ষেত্রে। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে শাখা থেকে প্রদত্ত বিনিয়োগ গ্রাহকদের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। গ্রাহকদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ব্যাংকিং সেবা ও নিয়ম সম্পর্কে গ্রাহকদের বিস্তারিত জানানো হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজ মাধ্যম তৈরি করা হয়েছে। শরিয়াহ বোর্ড ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। শরিয়াহ পরিপালনে কোনো ঘাটতি দেখা গেলে তা দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করার প্রচেষ্টা চলছে।

খেলাপি হয়ে যাওয়া বিনিয়োগ আদায় ও খেলাপির হার কমিয়ে আনার বিষয়ে আপনাদের গৃহীত উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাই।

খেলাপি বিনিয়োগ আদায়ের লক্ষ্যে শাখা ও জোন পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সদস্যরা খেলাপি বিনিয়োগ আদায় কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করবেন। প্রতি মাসে খেলাপি বিনিয়োগ আদায়ের অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন পরিচালনা পরিষদে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শীর্ষ ১০০ খেলাপি গ্রাহকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসার বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন ও বিশ্লেষণ করে যথাযথ সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খেলাপি বিনিয়োগের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য এটিকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হচ্ছে ১. ইচ্ছাকৃত খেলাপি এবং ২. ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে তারা বিনিয়োগ পরিশোধ করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে বিশেষ সহায়তা ও পুনঃতফসিলীকরণের মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। শীর্ষশ্রেণীকৃত ও পুনঃতফসিলকৃত খেলাপি বিনিয়োগ আদায়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শাখা, জোন, ডিভিশন ও উইংকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নিবিড় ফলো-আপ, তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন পরিস্থিতির উন্নয়নে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে?

২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর ব্যাংকের সুশাসন চরমভাবে ভেঙে পড়ে। জনশক্তি নিয়োগ আগের মতো যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে না করায় ব্যাংকের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষ অঞ্চলভিত্তিক পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগের মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার বদলে ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এছাড়া ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা হয় এবং অপেশাদার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমান পরিচালনা পরিষদ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বহুমুখী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত সময়ে বিভিন্ন অন্যায় ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। জড়িতদের কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে নীতিমালার পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

দেশে ইসলামী ধারার ব্যাংকিং দূর্বল হয়ে পড়লেও গ্রাহকদের চাহিদার কমেনি। বরং আগামীতে ইসলামী ধারার ব্যাংকিং আরো জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণে আপনাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাই।

আমরা গ্রাহকদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দেয়ার দিকে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। অনলাইন ব্যাংকিং ও সেলফিনের মতো ডিজিটাল সেবাকে দিন দিন উন্নত ও ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন ফিনটেক সমাধান সংযোজন করা হবে। গ্রাহকদের বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে নতুন এবং উদ্ভাবনী ইসলামী ব্যাংকিং পণ্য ও সেবা নিয়ে আসা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব, বিনিয়োগ প্রকল্প এবং শরিয়াহভিত্তিক সেবাগুলো। দেশব্যাপী শাখা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নকল্পে প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ কর্মীবাহিনী নিয়োগ করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বিশেষ বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যার মাধ্যমে গ্রাহকরা আমাদের পণ্য ও সেবা সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে এবং তাদের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূলনীতি ও শরিয়াহ পরিপালনে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ব্যাংকের সব কার্যক্রম শরিয়াহ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হয়। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে একটি শক্তিশালী নৈতিক কাঠামো বজায় রাখতে ইসলামী ব্যাংক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশে রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের অবদান সবচেয়ে বেশি। তবে সম্প্রতি আপনাদের ব্যাংকের বাজার অংশীদারত্ব কমে যাচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো কী কী ভূমিকা রাখতে পারে?

আশির দশক থেকেই প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী হলো ইসলামী ব্যাংক। দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের এক-তৃতীয়াংশই এ ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসতো। এ অংশীদারত্ব কিছুটা কমে গেলেও আমরাই এখনো মার্কেট লিডার। তবে আগামীতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি। বৈধ পথে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়াতে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত, রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমাতে ইসলামী ব্যাংকগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে; এক্ষেত্রে তারা অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় কম কমিশন বা ফি ধার্য করতে পারে, যা প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় হবে। দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য করতে পারে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের পাঠানো টাকা সময়মতো এবং নিরাপদে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবে। তৃতীয়ত, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার জন্য ইসলামী ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রণোদনা দিতে পারে। এছাড়া প্রবাসীদের মধ্যে আর্থিক শিক্ষা ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা এবং অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ইসলামী ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারে। বিদেশে ইসলামী ব্যাংকিং কাউন্টার বা প্রতিনিধি অফিস স্থাপন করে সরাসরি প্রবাসীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার একটি কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। পরিশেষে, প্রবাসীদের জন্য শরিয়াহসম্মত আকর্ষণীয় সঞ্চয়ী ও বিনিয়োগ স্কিম চালু করে তাদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এরমধ্যে আমরা এসব উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে প্রবাসীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।

আরও